২০২৬-এর বৈপরীত্য: অভূতপূর্ব সাফল্যের মাঝেও কেন অনুভূত হয় গভীর শূন্যতা?

২০২৬-এর বৈপরীত্য: অভূতপূর্ব সাফল্যের মাঝেও কেন অনুভূত হয় গভীর শূন্যতা?




২০২৬-এর বৈপরীত্য: রেকর্ড সাফল্যের মাঝেও কেন এমন শূন্য লাগে?

২০২৬ সাল এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের দরজায়। দরজার বাইরে উৎসবের আলো—ভেতরে ঢুকলে অদ্ভুত এক নীরবতা।
খবরের কাগজ খুললেই চোখ ঝলসে যায়। সংখ্যা ঝলমল করে। ডাও জোন্স ৪৯,৪৬২। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ছুঁয়েছে ৬,৯৪৪.৮২। প্রযুক্তি এমন সব কাজ করছে, যা কয়েক বছর আগেও কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হতো।

সব ঠিকই আছে।
তবু বুকের ভেতর কোথাও যেন একটা ফাঁকা জায়গা।
কেন?

আমরা কি খুব বেশি পেয়ে ফেলেছি?
নাকি ভুল জায়গায় খুঁজছি?

এই লেখা কোনো রাজনৈতিক প্রবন্ধ নয়। এটি কোনো অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও না।
এটি আসলে এক ধরনের আয়নার সামনে দাঁড়ানো।
নিজের চোখে নিজের দিকে তাকানো।




রেকর্ড বাজার, অথচ মন খালি

বাজার ওপরে উঠছে। খুব দ্রুত।
কিন্তু মানুষগুলো? তারা কি উঠছে?

একজন মানুষ আছে—সে বাজারের গ্রাফ বোঝে না। সে বোঝে মাসের শেষে ভাড়ার টাকাটা জোগাড় হবে কি না। আরেকজন মানুষ আছে—সে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে, তার সম্পদ রাতারাতি আরও কয়েক মিলিয়ন বেড়ে গেছে।

একে বলে ‘K-আকৃতির বাস্তবতা’।
আমি একে বলি—একই শহরে দুইটা পৃথিবী।

ইসলাম বলে, সম্পদ পুরস্কার নয়। সম্পদ আমানত।
অথচ আমরা আমানতকে ট্রফির মতো তুলে ধরছি।
যখন সম্পদ মানুষের কাজে না এসে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়, তখন সেই সম্পদ আর বরকত থাকে না।

বাজার হয়তো হাসছে।
কিন্তু বিবেকটা কেমন জানি চুপচাপ বসে আছে।




ক্ষমতা আছে, কিন্তু শান্তি নেই

আজকের পৃথিবীতে ক্ষমতা খুব দৃশ্যমান।
টিভিতে, মানচিত্রে, মিসাইলের পর্দায়।

কেউ বলে—আমরাই ঠিক।
কেউ প্রশ্ন করে না—আমরা কি বিনয়ী?

আল্লাহর সামনে মাথা না ঝুকিয়ে যদি কেউ ক্ষমতা ব্যবহার করে, ইতিহাস বলে—সেই ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
ক্ষমতা তখন রক্ষাকবচ নয়, বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

ক্ষমতার আসল পরীক্ষা শক্তি নয়।
ক্ষমতার আসল পরীক্ষা হলো—আপনি কতটা ন্যায়বান থাকতে পারেন।




প্রযুক্তি এত এগোল, আমরা কি এগোলাম?

এআই ভাবছে।
চাঁদের দিকে মানুষ আবার তাকাচ্ছে।
ব্যথা কমানোর নতুন ওষুধ এসেছে—যাতে নেশা নেই।

সবই ভালো খবর।

কিন্তু একটা ছোট প্রশ্ন থেকে যায়—
আমাদের হৃদয়টা কি আপডেট হয়েছে?

আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দেন।
জ্ঞান দিয়ে পরীক্ষা নেন।

প্রযুক্তি যখন মানুষের সেবা করে, তখন সেটা রহমত।
আর যখন মানুষকে বাদ দিয়ে কেবল নিয়ন্ত্রণ শেখায়—তখন সেটা ভয়।

বুদ্ধি যদি বিনয় না শেখে,
তাহলে সেই বুদ্ধিই একদিন ক্লান্ত করে তোলে মানুষকে।




প্রকৃতি যখন কিছু বলতে চায়

বন্যা আসে।
ভূমিধস নামে।
মানুষ ঘর ছাড়ে।

আমরা বলি—দুর্যোগ।

কিন্তু প্রকৃতি আসলে চিৎকার করে না।
সে শুধু জানায়।

আল্লাহ পৃথিবীকে ভারসাম্যের উপর বানিয়েছেন।
আমরা সেই ভারসাম্য ভেঙেছি।
অথচ অবাক হই—কেন ফল ভেঙে পড়ে।

বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো পরিসংখ্যান না।
ওরা প্রশ্ন।
নীরব, ভারী প্রশ্ন।




শেষে শুধু একটা প্রশ্ন

২০২৬ আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে।
তবু কেন মনে হয়, কিছু একটা কম?

হয়তো আমরা সামনে এগিয়েছি,
কিন্তু ভেতরে তাকাইনি।

এই সময়টা শুধু সংকটের নয়।
এই সময়টা ফিরে তাকানোর।

কারণ শেষ পর্যন্ত একটা কথাই সত্য—

আল্লাহর এই পৃথিবীর কিছুই দরকার নেই।
আমাদেরই আল্লাহকে দরকার।

নীরবে।
ভীষণভাবে।

Leave a Comment