খবরের বাইরে এক নীরব প্রশ্ন
টেলিভিশনের পর্দায় আজও আগুন জ্বলে,
সংবাদ পাঠকের গলায় কণ্ঠস্বর কাঁপে না।
তিনি বলেন— “সীমিত অভিযান”,
আমি জানি, তার মানে
একটা শিশুর স্কুল ব্যাগ ফেলে রেখে পালানো,
একটা মায়ের দরজার চাবি আর কখনো কাজে না লাগা।
খবর বলে—সবকিছু নাকি নিয়ন্ত্রণে,
আমি জানি, নিয়ন্ত্রণে নেই মানুষের ঘুম।
আলেপ্পোর আকাশ আজও প্রশ্ন করে—
“আমি কি শুধু মানচিত্রের দাগ?”
ওয়াশিংটনে কাগজে সই পড়ে,
কালো কালি—খুব পরিষ্কার।
কিন্তু সেই কালি ছুঁয়ে যায় না
জলবায়ুর কাঁপা বুক,
বা সমুদ্রের নোনা দীর্ঘশ্বাস।
আইন আছে, ন্যায় নেই—
এ কেমন পৃথিবী!
শক্তিশালীরা বলে—
“এটা কূটনীতি।”
দুর্বলরা বোঝে—
“এটা একা ফেলে যাওয়া।”
আমেরিকা দূরে সরে যায়,
পেছনে ফেলে দেয়
নারী, শিশু, বাতাস আর বৃষ্টি।
সামরিক বাজেট বাড়ে,
মানবিক বাজেট কমে—
একে কি শক্তি বলে?
মিনিয়াপোলিসে একটি মানুষ পড়ে যায়,
রাষ্ট্র বলে— “ভুল বোঝাবুঝি”।
আমি জানি,
ভুল বোঝাবুঝিতে মানুষ মরে না,
মরে অবহেলায়।
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা আসে,
কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে না।
শুধু চুপচাপ বলে—
“তোমরা ভারসাম্য ভুলে গেছ।”
কুরআনের মীজান আজ কাদায় দাঁড়িয়ে,
পা ভিজিয়ে কাঁদে।
এই পৃথিবী আমাদের নয়—
আমরা কেবল তার তত্ত্বাবধায়ক।
এই সত্যটা আমরা ভুলে যাই
খুব সহজে,
যেমন ভুলে যাই
মানুষ হওয়া কতটা কঠিন।
তবু শোনো,
এখনো সময় আছে।
সংবাদ বন্ধ করে একবার জানালায় তাকাও।
দেখবে—
আকাশ এখনো কথা বলতে চায়,
পৃথিবী এখনো ক্ষমা করতে জানে।
আমরা কি পারি না
সংযমকে শক্তি বলতে,
সেবাকে বিজয় বলতে,
ন্যায়কে নিরাপত্তা বলতে?
আজ যদি আমরা না পারি,
কাল ইতিহাস প্রশ্ন করবে—
“তোমরা তখন কী করেছিলে?”
আমি চাই,
এই প্রশ্নের উত্তরে
আমরা চুপ করে না থাকি।