আমরা কি এখনো মানুষ?
রাতে ফোনের আলো জ্বলে,
ঘুম আসে না।
ফেসবুকের স্ক্রলে স্ক্রলে
দেশটা দু’টুকরো হয়ে যায়—
একটা আমরা, একটা ওরা।
কেউ বলে,
“তুমি আমার দলে না—
তাই তুমি শত্রু।”
আমি অবাক হয়ে ভাবি,
কালই তো একসাথে চা খেয়েছিলাম!
টিভির পর্দায় একজন নেতা চিৎকার করে,
তিনি নাকি একাই জানেন
আমাদের সব দুঃখের ঠিকানা।
তিনি শক্ত, তিনি রক্ষক,
তিনি ছাড়া আমরা নাকি কিছুই না।
আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই—
একজন মা বাজারের ব্যাগ নিয়ে হাঁটছেন,
একজন রিকশাওয়ালা ঘাম মুছছেন,
ওরা কাউকে খুঁজছে না “শক্ত নেতা” হিসেবে—
ওরা খুঁজছে একটু শান্তি।
কিন্তু কেউ একজন আমাদের কানে ফিসফিস করে,
“ওদের কারণে তোমার কষ্ট।”
আমরা বিশ্বাস করি।
কারণ বিশ্বাস করা সহজ,
ভাবা কঠিন।
আমাদের আবেগগুলোকে
ছোট ছোট স্লোগানে ভরে দেয় তারা—
ভয়ের স্লোগান,
রাগের স্লোগান,
গর্বের স্লোগান।
যুক্তি তখন চুপ করে থাকে।
হৃদয় হঠাৎ খুব জোরে কথা বলে।
একদিন দেখি—
আদালতকে আর বিশ্বাস হয় না,
ডাক্তারকে সন্দেহ লাগে,
সংবাদ মানেই মিথ্যে মনে হয়।
দেশটা যেন দাঁড়িয়ে আছে
একটা ভাঙা আয়নার সামনে।
আমি তখন খুব ধীরে বলি—
শুনতে পায় কি কেউ?
আমরা কি ভুলে যাচ্ছি
একটা সত্য—
আমরা সবাই একই কষ্টে মানুষ,
একই ভয়ে মানুষ,
একই আশায় মানুষ?
আমরা যদি আজ প্রশ্ন না করি,
কাল আমাদের হয়ে প্রশ্ন করবে
কেউ অন্য কেউ।
তাই এসো,
একটু থামি।
একটু ভাবি।
একটু সন্দেহ করি সেই কণ্ঠগুলোকে
যারা ঘৃণা শেখায়,
আর ভালোবাসাকে দুর্বলতা বলে।
দেশটা কোনো স্লোগান না,
দেশটা কোনো দলের সম্পত্তি না।
দেশটা সেই মানুষটা—
যে তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে,
এখনো তোমার মতোই মানুষ।
আজ যদি আমরা মানুষ হই,
কাল হয়তো রাজনীতিও মানুষ হবে।