বিপজ্জনক প্রতিধ্বনি

বিপজ্জনক প্রতিধ্বনি

লন্ডনের একটি স্টুডিওতে ফোনটি বেজে ওঠে। হাজার হাজার মাইল দূরে, বাংলাদেশের মাগুরায়, একজন মানুষ অপেক্ষা করছেন একটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য। প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে ধর্মতাত্ত্বিক—কে মুসলিম, আর কে নয়? কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও ভয়ংকর প্রশ্ন:

কোনো সরকার যদি মানুষের বিশ্বাসের বিচারক হয়ে ওঠে, তাহলে নাগরিকের স্বাধীনতা আর রাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমারেখা কোথায় থামে?

বাংলাদেশে আহমদিদের অমুসলিম ঘোষণা করার দাবি নতুন নয়। কিন্তু এই দাবির প্রকৃত তাৎপর্য বোঝার জন্য ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ইসলামাবাদের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়। অর্ধশতাব্দী আগে পাকিস্তান একটি নজির তৈরি করেছিল—রাষ্ট্রীয় সংবিধান দিয়ে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মুসলিম পরিচয় অস্বীকার করা যায়।

তারপর যা ঘটেছিল, তা ছিল কেবল একটি আইনের গল্প নয়। ছিল পরিচয়ের ওপর আইন, বিশ্বাসের ওপর নজরদারি এবং শেষ পর্যন্ত একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের দীর্ঘ ছায়া।

আজ বাংলাদেশ সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই।

কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত সবসময় তখন আসে না, যখন সীমারেখা অতিক্রম করা হয়ে যায়। কখনো কখনো বিপদ শুরু হয় তার অনেক আগে—যখন সমাজ প্রথমবার ভাবতে শুরু করে যে রাষ্ট্রের হাতে মানুষের ঈমানের সনদ দেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত।

সেই প্রশ্নটিই এখন বাংলাদেশের সামনে।

এটি শুধু আহমদিদের প্রশ্ন নয়।

এটি বাংলাদেশের সংবিধান, গণতন্ত্র এবং শেষ পর্যন্ত—রাষ্ট্র একজন নাগরিকের কাছ থেকে ঠিক কতটুকু দাবি করতে পারে—তার প্রশ্ন।

Leave a Comment