
একটি ওয়ার্কশপের শাটার নামল। একজন মানুষ বাড়ির পথে রওনা হলেন। কয়েক মিনিট পর সেই পথই হয়ে উঠল তাঁর মৃত্যুর স্থান।
মান্ডি বাহাউদ্দিন, পাকিস্তান — ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সেদিন সন্ধ্যায় মির্জা সফদার মাহমুদ শুধু বাড়ি ফিরছিলেন।
৬৫ বছরের এই মানুষটি তাঁর গাড়ির ওয়ার্কশপের দিনের কাজ শেষ করে শাটার নামিয়েছিলেন। তারপর পরিচিত পথ ধরে রওনা হয়েছিলেন স্ত্রী ও দুই ছেলের কাছে।
বাড়ি আর পৌঁছানো হয়নি।
২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মান্ডি বাহাউদ্দিনের কেন্দ্রীয় ঈদগাহের কাছে দুজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর পিছু নেয়। তারপর গুলির শব্দ।
মাহমুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
একটি কর্মদিবস শেষ হয়েছিল।
একটি জীবনও।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। জেলা পুলিশ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট (অব.) কামরান আমির খান Dawn-কে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে। মাহমুদের কোনো পরিচিত ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি তাঁর মৃত্যুর পরের প্রশ্নগুলোতে লুকিয়ে আছে।
মাহমুদ ছিলেন একজন আহমদি।
পাকিস্তানে এই পরিচয় নিছক ধর্মীয় পরিচয় নয়। এটি এমন একটি পরিচয়, যার সঙ্গে কয়েক দশক ধরে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ, ফৌজদারি আইন, সামাজিক বৈষম্য এবং সহিংসতার আশঙ্কা জড়িয়ে আছে।
আহমদিরা নিজেদের মুসলিম মনে করেন। পাকিস্তানের সংবিধান অবশ্য তাদের অমুসলিম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। দেশটির ফৌজদারি আইনের কয়েকটি ধারায় তাদের ধর্মীয় পরিচয় ও ধর্মীয় অভিব্যক্তির ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।
মাহমুদকে কেন হত্যা করা হয়েছে, পুলিশ এখনো তা নিশ্চিত করেনি। তাঁর আহমদি পরিচয় হত্যার কারণ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
তবু প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
কারণ একজন মানুষ বাড়ি ফেরার পথে নিহত হয়েছেন—আর তাঁর পরিচয় সেই মৃত্যুকে এমন একটি দেশের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যেখানে একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু বহুদিন ধরে সমঅধিকারের প্রশ্নের মুখোমুখি।
কে মির্জা সফদার মাহমুদের পিছু নিয়েছিল?
আর কেন?