
VOIB | প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা
আল্লাহর সিংহ
উদ্বেগের যুগে স্রষ্টার ওপর ভরসা
ভয়, অনিশ্চয়তা আর বস্তুগত নিরাপত্তাহীনতা যখন আধুনিক জীবনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে, তখন বিশ্বব্যাপী আহমদিয়া মুসলিম জামাতের পঞ্চম খলিফা হযরত মির্জা মসরুর আহমদ (আ.) ফিরে তাকালেন ইসলামের এক প্রাচীন প্রশ্নের দিকে: সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করার অর্থ কী?
VOIB ধর্ম ও বিশ্ববিষয়ক ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছেড়ে দেওয়ার সাহস
প্রতিটি যুগেরই নিজস্ব কিছু ভয় আছে।
কখনো সেই ভয় ধরা পড়ে বাজারের পতনে, অনিশ্চিত ভবিষ্যতে কিংবা খালি ব্যাংক হিসাবে। আবার কিছু ভয় আরও নিঃশব্দ—নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়, কিংবা আগামীকাল এমন কোনো পরিস্থিতি নিয়ে আসবে, যার জন্য আমরা প্রস্তুত নই—এই আশঙ্কা।
২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিশ্বব্যাপী আহমদিয়া মুসলিম জামাতের পঞ্চম খলিফা হযরত মির্জা মসরুর আহমদ (আ.) ইসলামের একটি মৌলিক আধ্যাত্মিক ধারণার মাধ্যমে মানুষের সেই প্রাচীন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন—তাওয়াক্কুল, অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা।
তবে এই বার্তা কোনোভাবেই চেষ্টা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান নয়।
বরং ঠিক তার বিপরীত।
খুতবার আলোচনায় যে ধারণাটি উঠে এসেছে, তাতে আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শুরুই হয় দায়িত্ববোধ থেকে। একজন মুমিনকে বৈধ ও সম্ভাব্য সব উপায় অবলম্বন করতে হবে, নিষ্ঠা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে চেষ্টা করতে হবে। এরপর স্বীকার করতে হবে—শেষ পরিণতি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
তাওয়াক্কুল মানে কিছুই না করা নয়। তাওয়াক্কুল হলো—মানুষের সাধ্য অনুযায়ী সবটুকু চেষ্টা করা, তারপর ভয়কে নিজের নিয়ন্তা হতে না দেওয়া।
আহমদিয়া মুসলিম জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি (আ.)-এর জীবন ও শিক্ষার আলোকে হযরত মির্জা মসরুর আহমদ এমন এক বিশ্বাসের চিত্র তুলে ধরেন, যেখানে মানুষের চেষ্টা এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা পরস্পরের বিপরীত নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।
মুমিন চেষ্টা করে।
মুমিন দোয়া করে।
তারপর মুমিন ভরসা করে।
যখন পকেট শূন্য
আর্থিক নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে শক্তিশালী আধুনিক প্রবৃত্তি খুব কমই আছে।
আমরা সঞ্চয় করি। বিমা করি। সম্পদ জমাই। হিসাব করি।
কিন্তু খুতবায় হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.)-এর জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা স্মরণ করা হয়। বর্ণনা অনুযায়ী, এমন সময়ও এসেছিল যখন তাঁর বস্তুগত সম্পদ প্রায় সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তা তাঁকে হতাশ করেনি; বরং আল্লাহর ওপর নির্ভরতার অনুভূতিকে আরও গভীর করেছিল।
তাঁর আত্মবিশ্বাস, এই বর্ণনা অনুযায়ী, হাতে থাকা অর্থের পরিমাণের সঙ্গে ওঠানামা করত না।
বরং পকেট যত শূন্য হয়েছে, আল্লাহর ওপর নির্ভরতার অনুভূতিও তত গভীর হয়েছে।
আধুনিক ভোগবাদী সমাজের চোখে ছবিটি যেন সম্পূর্ণ উল্টো।
যে সমাজে নিরাপত্তাকে প্রায়ই সম্পদের সঙ্গে মাপা হয়, সেখানে হযরত মির্জা গোলাম আহমদের দৃষ্টান্ত যেন সেই সমীকরণটিই বদলে দেয়। এই আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে নিরাপত্তার শেষ আশ্রয় মানুষের মালিকানাধীন সম্পদ নয়।
নিরাপত্তা নির্ভর করে—মানুষ কাকে বিশ্বাস করে তার ওপর।
সাহিবজাদা মির্জা বশীর আহমদ (রা.) এই বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে মাটির নিচের ঝরনার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কখনো একটি কূপের ওপরের অংশ পুরোপুরি শুকনো মনে হতে পারে; অথচ মাটির গভীরে পানি জমে থাকে, যা পরে আবার প্রবাহিত হয়।
তেমনি, বাহ্যিকভাবে শূন্য হাতের পরেও অপ্রত্যাশিতভাবে রিজিকের দরজা খুলে যেতে পারে—এমন একটি আধ্যাত্মিক শিক্ষা এই বর্ণনায় উঠে আসে।
শিক্ষাটি দারিদ্র্যকে কাম্য বলা নয়।
বরং শিক্ষা হলো—দারিদ্র্যের ভয় যেন আল্লাহর ওপর বিশ্বাসের চেয়ে বড় হয়ে না ওঠে।
যে মিশন কেনা যায় না
এই আত্মবিশ্বাস বাস্তব জীবনের নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়েও যাচাই হয়েছিল।
খুতবায় উঠে আসে বারাহিনে আহমদিয়া-কে ঘিরে একটি ঘটনা। এটি হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.)-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রচনাগুলোর একটি।
মুদ্রণসংক্রান্ত জটিলতায় বই প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছিল। এতে একজন গ্রাহক অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর অর্থ ফেরত চান।
প্রতিক্রিয়াটি ছিল না রাগের।
ছিল না হতাশারও।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.) তাঁকে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু ঘটনাটির তাৎপর্য প্রকাশনা-সংক্রান্ত বিরোধের চেয়ে অনেক বড়।
যে কাজকে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে বিশ্বাস করতেন, সেটি কোনো ব্যক্তির অর্থনৈতিক সহায়তা কিংবা ধৈর্য-অধৈর্যের ওপর শেষ পর্যন্ত নির্ভর করতে পারে না।
কাজ বিলম্বিত হতে পারে।
অর্থ হারিয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
কিন্তু বিশ্বাস অটুট থাকতে পারে।
যদি কোনো দায়িত্ব আল্লাহর হয়, তবে তার চূড়ান্ত সহায়তাও আল্লাহর কাছ থেকেই আসবে—এই বিশ্বাসই ছিল মূল কথা।
“আমি আল্লাহর সিংহ”
এরপর আসে খুতবার অন্যতম কেন্দ্রীয় ঘটনা—আধ্যাত্মিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পার্থিব ক্ষমতার এক মুখোমুখি অবস্থান।
উপস্থাপিত বর্ণনা অনুযায়ী, গুরদাসপুরে একটি আইনি বিরোধের সময় হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.)-এর বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর প্রতি বিরূপ ছিলেন এবং বিচারিক ক্ষমতার মাধ্যমে তাঁর বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়।
খবরটি হযরত মির্জা গোলাম আহমদের কাছে পৌঁছায়।
খুতবায় বর্ণিত তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ:
«“আমি কি তার শিকার? আমি কোনো শিকার নই—আমি সিংহ, সর্বশক্তিমান আল্লাহর সিংহ!”»
এই বক্তব্যকে ব্যক্তিগত ঔদ্ধত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
বরং এর তাৎপর্য ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।
এই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি ছিল এমন এক বিশ্বাস—মানুষের ক্ষমতা যত বড়ই হোক, শেষ পর্যন্ত তা আল্লাহর কর্তৃত্বের অধীন।
বর্ণনা অনুযায়ী, বিশ্বাসের কারণে প্রয়োজন হলে তিনি কষ্ট, এমনকি কারাবাসও সহ্য করতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু তিনি মনে করতেন না যে নিপীড়ন কোনো ঐশী মিশনের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করতে পারে।
আহমদিয়া ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে ওই ম্যাজিস্ট্রেট বদলি হন এবং হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.) খালাস পান।
ঘটনাটিকে কেউ বিশ্বাসের গল্প হিসেবে দেখবেন, কেউ সাহসের, কেউবা ঐশী ব্যবস্থাপনার ইতিহাস হিসেবে। কিন্তু এর কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি আজও প্রাসঙ্গিক:
মানুষ যখন বিশ্বাস করতে শেখে যে পার্থিব ক্ষমতাই শেষ কথা নয়, তখন তার ভয় কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?
লোহার বালা
তবে সতর্কবার্তাও ছিল।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলে হাতে হাতকড়া পরতে হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও উঠে আসে।
হযরত মির্জা গোলাম আহমদের কথিত প্রতিক্রিয়া সেই আশঙ্কাকেই এক ধরনের আধ্যাত্মিক মর্যাদার প্রতীকে রূপ দেয়।
মানুষ আনন্দের সঙ্গে সোনা-রুপার অলংকার পরে। আল্লাহর পথে যদি বিশ্বাসীদের হাতে লোহার ‘বালা’ও পরতে হয়, তবে সেটিও সম্মানের সঙ্গে পরা যায়—এমন ভাবনা তিনি প্রকাশ করেছিলেন বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়।
এই উপমাটিই খুতবার উপস্থাপিত আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি বৈশিষ্ট্য।
নিপীড়ন অস্বীকার করা হয়নি।
কষ্ট অস্বীকার করা হয়নি।
ভয়ও অস্বীকার করা হয়নি।
কিন্তু তাদের অর্থ বদলে যেতে পারে।
শিকল হয়ে উঠতে পারে আত্মত্যাগের প্রতীক।
পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে ধৈর্যের সুযোগ।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ হয়ে উঠতে পারে দোয়ার উপলক্ষ।
বাহ্যিক পরিস্থিতি কঠিনই থাকে।
বদলে যায় আল্লাহর সঙ্গে মানুষের অন্তর্গত সম্পর্ক—আর সেই সম্পর্কই পরিস্থিতির অর্থকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়।
রাজাধিরাজের কর্মচারী সেই তরুণ
খুতবার সম্ভবত সবচেয়ে ব্যক্তিগত গল্পটি কোনো আদালত থেকে নয়, এসেছে শৈশবের স্মৃতি থেকে।
বর্ণনা অনুযায়ী, হিন্দু এক প্রতিবেশী হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.)-কে শৈশব থেকেই চিনতেন। তাঁর স্মৃতিতে তরুণ মির্জা গোলাম আহমদ ছিলেন এমন একজন, যিনি প্রচলিত পার্থিব উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি খুব একটা আকৃষ্ট ছিলেন না।
ব্যবসার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল না।
রাজনৈতিক পদ-পদবির প্রতিও তাঁকে আগ্রহী দেখা যেত না।
তিনি প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক চিন্তায় যথেষ্ট সময় ব্যয় করতেন।
তাঁর বাবা তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।
এভাবে চললে এই তরুণ জীবিকা নির্বাহ করবেন কীভাবে?
তাঁর প্রতি আরোপিত একটি উত্তর ছিল অত্যন্ত সরল:
«“আমি রাজাধিরাজ ও বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কর্মচারী। পার্থিব চাকরির জন্য আমার কী প্রয়োজন?”»
বছর পেরিয়ে যায়।
বর্ণনা অনুযায়ী, সেই প্রতিবেশী পরে আবেগের সঙ্গে বলেছিলেন—যে তরুণকে তিনি একসময় চিনতেন, তাঁর জীবনে কী অসাধারণ পরিবর্তন ঘটেছে।
পার্থিব সাফল্যের প্রতি যে তরুণকে একসময় অনাগ্রহী মনে হয়েছিল, তিনিই পরবর্তীকালে এমন একটি ধর্মীয় আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হন, যার অনুসারীরা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।
গল্পটির মধ্যে একটি গভীর বৈপরীত্য আছে।
কখনো যে মানুষটিকে পার্থিব সাফল্যে সবচেয়ে কম আগ্রহী মনে হয়, সে হয়তো সাফল্যের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সংজ্ঞার পেছনে ছুটছে।
উদ্বেগের বিপরীত কী?
খুতবার বক্তব্য শেষ পর্যন্ত উনিশ শতকের ভারতবর্ষকে ছাড়িয়ে যায়।
বিষয়টি আসলে শুধু অর্থ নয়।
ম্যাজিস্ট্রেটও নয়।
প্রকাশনার বিলম্বও নয়।
এমনকি নিপীড়নও নয়।
বিষয়টি হলো—উদ্বেগ।
মানুষ অনিশ্চয়তা দূর করতে পারে না। যতই পরিকল্পনা করা হোক, আগামীকালকে পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায় না।
সম্পদ হারিয়ে যেতে পারে।
প্রতিষ্ঠান বদলে যেতে পারে।
কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটতে পারে।
জীবনে কঠিন সময় আসতে পারে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বদলে যেতে পারে।
খলিফার উপস্থাপিত ধর্মতাত্ত্বিক কাঠামোয় বিশ্বাসের অর্থ এই নয় যে একজন মুমিন কখনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না।
বরং এর প্রতিশ্রুতি অন্য জায়গায়—
কঠিন পরিস্থিতি যেন মানুষের অন্তরের ভারসাম্যকে ধ্বংস করতে না পারে।
খুতবায় স্মরণ করা হয় হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.)-এর একটি বক্তব্য:
«“যে আল্লাহর হয়ে যায়, আল্লাহ তার হয়ে যান।”»
এই বাক্য তাওয়াক্কুলকে সাধারণ আশাবাদের চেয়ে অনেক গভীর একটি ধারণায় পরিণত করে।
আশাবাদ বলে—আগামীকাল হয়তো ভালো হবে।
তাওয়াক্কুল বলে—আগামীকাল যা-ই আসুক, আমি আল্লাহর ওপর অটল থাকব।
আধুনিক প্রশ্ন
আল্লাহর ওপর নির্ভরতার এই উনিশ শতকের ভাষার মধ্যে আধুনিক সময়ের জন্যও এক অদ্ভুত প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।
আজকের পৃথিবীতে আগের যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় তথ্য বেশি।
প্রযুক্তি বেশি।
আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপায় বেশি।
অনিশ্চয়তা কমানোর জন্য তৈরি ব্যবস্থা বেশি।
তবু উদ্বেগ রয়ে গেছে মানুষের সঙ্গেই।
এই কারণেই খুতবায় উপস্থাপিত আধ্যাত্মিক উত্তরটি যুক্তি কিংবা প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে না। বরং এটি অগ্রাধিকারের ক্রমটি নতুন করে সাজায়।
কাজ করুন—কিন্তু কাজকেই উপাস্য বানাবেন না।
পরিকল্পনা করুন—কিন্তু পরিকল্পনাই আপনাকে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ দিতে পারে, এমন ধারণা করবেন না।
রিজিকের সন্ধান করুন—কিন্তু সম্পদকে আপনার উপাস্য বানাবেন না।
নিজেকে রক্ষা করুন—কিন্তু পার্থিব ক্ষমতাকে সর্বময় মনে করবেন না।
দোয়া করুন—দায়িত্ব থেকে পালানোর জন্য নয়; বরং দায়িত্ব পালনের পর ফলাফল যাঁর হাতে, তাঁর সামনে নিজের দায়িত্ববোধের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে।
হযরত মির্জা মসরুর আহমদের উপস্থাপিত তাওয়াক্কুলের কাঠামো যেন এভাবেই দাঁড়ায়।
সিংহ এবং নীরব হৃদয়
তাই খুতবার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক হয়তো কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সিংহ নয়।
এর নিচে থাকা আরও নীরব একটি ছবি হতে পারে—
একজন মানুষ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু নিজের অন্তরের শান্তিকে সমর্পণ করছেন না।
সিংহ নির্ভয় নয় এই কারণে যে বিপদ নেই।
বরং এই আধ্যাত্মিক দর্শনে সিংহ নির্ভয়—কারণ আল্লাহ বিপদের চেয়েও মহান।
এই পার্থক্যটিই বক্তব্যটির কেন্দ্রে।
বিশ্বাস সব সময় ঝড় থামিয়ে দেয় না।
কিন্তু ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির অবস্থান বদলে দিতে পারে।
আর ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বক্তব্য শোনা লাখো মানুষের জন্য বার্তাটি ছিল সরল:
যা করার ক্ষমতা আছে, তা করুন।
যা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তার জন্য দোয়া করুন।
আর যখন ফলাফল শেষ পর্যন্ত আপনার হাতের বাইরে চলে যাবে, তখন সেটি আল্লাহর হাতে সমর্পণ করুন।